যায়যায়বেলা
যায়যায়বেলা

আখাউড়ায় গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের সামনেই বিষ পান করলেন নারী

বিশেষসংবাদদাতা; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মৌসুমী আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূ বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি)সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৌসুমী আক্তার ওই গ্রামের আমিন মিয়ার স্ত্রী ও একই এলাকার আইয়ুব খানের মেয়ে। তবে পুলিশের দাবি, ওই নারী মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদক মামলা আছে।গতকাল উপজেলার একটি জমি থেকে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সেগুলোর মালিক ওই নারী ও তাঁর স্বামী।তাকে ধরতে গেলে তিনি ঘরে গিয়ে বোরকা পরার কথা বলে বিষপান করেন। তার নামে দুটি মাদক মামলা রয়েছে।

তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মৌসুমী আক্তারের মা শাহানা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সন্ধ্যার দিকে আখাউড়া থানার এএসআই আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে নারী পুলিশসহ ৮/১০ জন পুলিশ আমার বাড়িতে আসেন। তারা আমার মেয়েকে ধরে থানায় নিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন। মৌসুমী তখন পুলিশ সদস্যদের তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে এএসআই আজিজ বলেন, ‘ওসি সাহেব তোমাকে থানায় নিয়ে যেতে বলেছে।’

মৌসুমীর মা আরও বলেন, এসময় আমি পুলিশকে বলি, আমার মেয়ের হার্টে ব্লক আছে, তাকে নিয়েন না। দরকার হলে আমি থানায় যাবো। এসময় পুলিশ তাকে জোর করে ধরে নিয়ে যেতে চাইলে আমার মেয়ে পুলিশের সামনে বিষ খেয়ে ফেলে। পরে আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,মৌসুমীকে প্রথমে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল পাঠানো হয়। সেখান থেকে রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল মোনেম বলেন, বিষপান করা আখাউড়ার এক নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাকে প্রথমে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করি।পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য কাউন্সিলিং করা হয়। পরবর্তীকালে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)আসাদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সতত্যা   নিশ্চিত করে বলেন,ওই নারী একটি বাগানে পাচারের জন্য গাঁজা মজুত করেছিল। বাগানের মালিক গাঁজা দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ গিয়ে গাঁজা উদ্ধার করে নিয়ে আসে। পরবর্তীকালে মৌসুমী গিয়ে গাঁজা না পেয়ে বাগানের মালিককে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। বাগানের মালিক বিষয়টি থানায় জানালে গাঁজাগুলো মৌসুমীর বলে আমরা নিশ্চিত হই। পরে গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় মৌসুমীর নামে থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর তাকে ধরতে গিয়ে ঘরের দরজায় ধাক্কা দেওয়া হয়। এসময় মৌসুমী পুলিশকে বলে, আমি বোরকা পরে বের হচ্ছি। এই বলে ঘরের ভেতরে বিষপান করে।আগে রোগীর চিকিৎসা হোক। তারপরে যদি তদন্তে এএসআই আজিজের কোনো অপরাধ থাকে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

যায়যায়বেলা