যায়যায়বেলা
যায়যায়বেলা

খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের স্পিডগান ব্যবহারে গাড়ির বেপরোয়া গতি কমে আসছে

আব্দুল মমিন সরাইল প্রতিনিধি।।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঢাকা – সিলেট মহাসড়কে গাড়ির বেপরোয়া গতি কমিয়ে আনতে এবং যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশ প্রতিদিনের মতো স্পিডগান ব্যবহার করছে। শনিবার ( ৭ মে )  সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে উপজেলার সদর ইউনিয়ন কুট্টাপাড়া ব্র্যাক অফিসের সামনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে স্পিডগান নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে হাইওয়ে থানার পুলিশ।এসময় বেপরোয়া গতির গাড়ি থামালে ,যাত্রীরা হাইওয়ে পুলিশকে ধন্যবাদ জানায়,যাত্রীরা বলেন গাড়ির চালকরা অতিরিক্ত টাকার লোভে কার আগে কে যাত্রী নিবে, এ নিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান,আমরা বললেও কথা শোনেনা ,এখন পুলিশ দেখে ভালো মানুষ হয়ে গেছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থেকে বিজয়নগর উপজেলার সাতবর্গ পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক খাঁটিহাতা বিশ্বরোড মোড় থেকে কসবা উপজেলার কুটি চৌমুহনী কালামোড়া সেতু পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটার এলাকার দায়িত্বে রয়েছে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশ। প্রতিদিন এ দু’টি মহাসড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার যানবাহন ও মানুষ চলাচল করে।
একইসঙ্গে মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম বাহন তিন চাকার যান (থ্রি-হুইলার) চলাচল রোধেও গুরুত্ব দিয়েছে হাইওয়ে থানার পুলিশ। এছাড়াও, মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি চালানো এবং লাইসেন্স ও হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধেও নিয়মিত মামলা রুজু করে রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে।
সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুখেন্দু বসু জানান, মহাসড়ক ফাঁকা পেলেই চালকরা ওভারস্পিডে গাড়ি চালাতে তৎপর হয়ে ওঠেন। যাত্রীদের চাপ বাড়লে পরিবহনের চালকরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। তাই গাড়ির চালকদের মাঝে সতর্কতামূলক সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনা অনেকটায়  কমে আসবে বলে আশা করেন।
তিনি বলেন, মহাসড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ সকল প্রকার বৈধ যানবাহন যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সে লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছি। মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি রোধসহ যেকোনো ধরণের নৈরাজ্য বন্ধে খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ বদ্ধ পরিকর। যদি কেউ মহাসড়কে চাঁদাবাজি বা যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেব।
ওসি আরও বলেন, মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে- তিন চাকার যানবাহন (থ্রি-হুইলার) চলাচল। যে কারণে মহামান্য হাইকোর্ট ও সরকার মহাসড়কে এসব যান চলাচলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমাদের থানা এলাকার মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলের বিরুদ্ধে আমরাও জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। তারপরেও বিভিন্ন পার্শ্ব রাস্তা থেকে মাঝেমধ্যেই তিন চাকার বিভিন্ন যানবাহন মহাসড়কে উঠে পড়ে। আমরা প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব নিষিদ্ধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করি।
এছাড়া মহাসড়কে অন্যান্য বড় যানবাহন চলাচলের ব্যাপারেও হাইওয়ে পুলিশের কঠোর নজরদারি রয়েছে বলে জানান ওসি সুখেন্দু বসু। তিনি বলেন, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে যাতে কেউ দুর্ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য সড়কে স্পিডগান ব্যবহার করা হচ্ছে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালালে স্পিডগানের মাধ্যমে শনাক্ত করে মামলা ও জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। জনস্বার্থে আমাদের এ অভিযান অবহৃত থাকবে।
যায়যায়বেলা