যায়যায়বেলা
যায়যায়বেলা

ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও অদক্ষ চালকদের সড়কে প্রতিযোগিতায় দুর্ঘটনার কারণ

মাইনুদ্দীন চিশতী;
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঢাকা সিলেট মহাসড়কে লাইসেন্সহীন অদক্ষ  অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের হাতে গাড়ির চাবি তুলে দেয়া হয়। বহু ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করে রাস্তায়, যেগুলোর নিয়ন্ত্রণে সমস্যা রয়েছে।
সোমবার বিকেলে সরজমিনে দেখা গেছে সরাইল উপজেলা কুট্টাপাড়া মোড়ে লক্কড় ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির প্রতিযোগিতা চিত্র।ব্রাহ্মণবাড়িয়া- মাধবপুর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া- আশুগঞ্জ সড়কে বাস গুলিও দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে । লক্কড় ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন কিছু বাসগাড়ীকে নতুন রং করে সড়কে নামিয়ে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে ।
উপরন্তু কিছু অদক্ষ চালক থাকায় সড়কে পাল্লা দিয়ে গাড়ী চালাচ্ছে । সড়কে চলাচলকারী অন্যান্য ছোট গাড়ীগুলিকে থোরাই কেয়ার করছে তারা । সিএনজি অটোরিকশা বা প্রাইভেটকারগুলির চালকদের সাথে শত্রুভাবাপন্ন আচরণ প্রদর্শন করে যাচ্ছে বাসের চালকরা । বাসগুলি এক ষ্টেশনে যাতী উঠাতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় পার করার কারনে সামনের ষ্টেশনে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছতে দ্রুতবেগে গাড়ী চালাতে দেখা যায় । এতে করে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে ।
সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন কতজন প্রাণ হারায় তার সঠিক পরিসংখ্যান কোথাও নেই। এমন কোনো দিন খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেদিন সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে না। এর মধ্যে এমন অনেক দুর্ঘটনা ঘটে, যেগুলোকে দুর্ঘটনা না বলে হত্যাকাণ্ডও বলা যায়।
অনেক চালক রাত-দিন গাড়ি চালায়। অত্যধিক ক্লান্তি এবং গাড়ি চালাতে চালাতে ঘুমিয়ে যাওয়ার কারণেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। আবার বেপরোয়া গতি, প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো, গাড়ি চালাতে চালাতে মোবাইল ফোনে কথা বলাসহ বহু অনিয়ম ঘটে রাস্তায়।এসব কারণে রাস্তায় মৃত্যুর মিছিল লেগেই আছে। এর সঙ্গে আছে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালক। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রায় শতাংশ চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।আবার বৈধ লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে এমন চালকের কোনো অনুমোদিত ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেনি। ফলে বেশির ভাগ চালকই ট্রাফিক আইন ভালো জানে না। সড়ক দুর্ঘটনার এটাও একটা বড় কারণ।সারাদেশে মহাসড়কে সিএনজি আঁটোরিক্সার চলাচলে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারী করার পরও প্রায় অনেক জায়গায় গাড়িগুলি চলাচল করলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার সড়ক গুলিতে দেখা যায় একটু ভিন্নচিত্র।
পাশ্ববর্তী জেলার সড়কগুলিতে সিএনজি আঁটোরিক্সার নির্বিঘ্নে চললেও এখানে সে ভাবে চালাতে পারছেনা চালকরা। দুর্ঘটনা রোধে হাইওয়ে পুলিশ কঠোর অভিযান পরিচালনা করছে কয়েকদিন পরপরই। আবার কয়েকদিন শিখিলও থাকছে।
সিএনজি আঁটো রিক্সার চলচলকারী যাত্রীদের মধ্য শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের সংখই বেশী। গ্রামের সংযোগ সড়ক হয়ে ঢাকা সিলেট মহাসড়ক ব্যবহার করে সিএনজি আঁটোরিক্সার গুলি কুট্টাপাড়া থেকে বিশ্বরোড মোড় পঠন্ত সড়কে বাধ্য হয়ে কয়েকটি পাম্পে গ্যাস নিতে আসতে হয়।এই অংশে চলাচলকরী সিএনজি আঁটোরিক্সার , চালকদের হাইওয়ে পুলিশ একটু ছাড় দেয়ার কারণে তাদের দেখা দেখি আরো কিছু সিএনজি চালক উল্লিখিত সড়কে যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে চেষ্টা করে।
এর মধ্যে কিছু অদক্ষ চালক ট্রাফিক আইন না মেনে মহাসড়কে চলতে দেখা যায়। এতে করে মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে। এদের বিরুদ্ধে কুট্টাপাড়াস্থ হাইওয়ে থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে।
যায়যায়বেলা