যায়যায়বেলা
যায়যায়বেলা

বন্ধুদের নিয়ে আড্ডায় মেতেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

বন্ধু মানে উৎচ্ছ্বাস, বন্ধু মানেই আবেগ ও ভালোবাসা। বন্ধুত্ব চলমান একটি প্রক্রিয়া। জীবনের সব ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। তবে আস্থা এবং নির্ভরতার বন্ধুত্ব স্কুল জীবনের বন্ধুরা।

স্কুল জীবনের বন্ধুদের নিয়ে প্রাণ খুলে হাসি-ঠাট্টা, গল্প, আড্ডায় মেতেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন বিদ্যাপিঠ অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৫৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৬০ বছর সময়ের শিক্ষার্থীরা। এই অন্নদা উৎসবে প্রায় দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন।

উৎসবের প্রথম ধাপ উপলক্ষে রোববার সকাল ৯টার দিকে জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে ৬০ বছর সময়ের শিক্ষার্থীরা একটি শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রাটি বিদ্যালয় থেকে জেলা শহরের টেংকেরপাড়, পুরাতন জেল রোড-কুমারশীল মোড়-হাসপাতাল রোড-পুরাতন কাচারী পুকুর পাড়-হালদারপাড়া অতিক্রম করে পুনরায় বিদ্যালয়ে এসে মিলিত হয়। শোভা যাত্রায় বিদ্যালয়ের ছাত্ররা বাদ্য যন্ত্র বাজিয়ে, নেচে-গেয়ে আনন্দ উৎযাপন করেন।

৮৭ ব্যাচের ছাত্র হানিফ আলম বলেন, এই উৎস প্রাণের উৎসব, এই উৎস নবীন-প্রবীণদের উৎস। কর্ম ব্যস্ততার কারণে আজ আমরা একজন আরেক জনের সঙ্গে দেখা করতে পারি না। ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়ে থাকে। এই উৎসবের কারণে আজ অনেক বন্ধুর সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর পড়ে দেখা। এই উৎসবের কারণে মনে হচ্ছে আবার আমরা স্কুল জীবনে ফিরে গেছি। আয়োজন কমিঠির প্রতি কৃতজ্ঞতা।

 

২০০৭ ব্যাচের ছাত্র সৈয়দ মুবিন ইসলাম জানান, আজ সেই পূর্বের স্কুল জীবনে ফিরে গেছি। বিদ্যালয় থেকে পাশ করেছি ১৫ বছর হলো। অন্নদা উৎসব অনুষ্ঠানে আমরা ২০০৭ ব্যাচের ৮৮ জন রেজিস্ট্রেশন করেছি। এসএসসি পাশের ১৫ বছর উৎযাপন উপলক্ষ্যে আমরা ২০০৭ ব্যাচের বন্ধুরা কেক কেটেছি। এই অনুষ্ঠানের কল্যাণে আমার অনেক বন্ধুকে প্রায় দুই যুগ পর দেখা পেয়েছি।

 

 

আরাফাত মিয়া নামের একজন সাবেক ছাত্র জানান, বাবার চাকরির সূত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে বড় হওয়া। এখানেই আমার স্কুল ও কলেজ জীবন কাটে। স্কুল জীবনের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার জন্য পটুয়াখালি থেকে এসেছি। এই স্কুলে আমার শৈশবের অনেক স্মৃতি ও আবেগ জড়িত। আজ সকল বন্ধুদের এক সঙ্গে পেয়ে মনে হচ্ছে আমি সেই স্কুল জীবনে ফিরে গেছি।

 

আরাফাত মিয়া আরও জানান, আজ বন্ধুদের দিন। এই উৎসব প্রাণের উৎসব। আজ স্কুলের নবীন ও প্রবীণেরা যেনো সেই স্কুল জীবনে ফিরে গেছি। যারা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, তাদের প্রতি কতজ্ঞতা।

অন্নদা উৎসবের আহবায়ক ডা. মো. আবু সাঈদ বিডি২৪ লাইভকে বলেন, প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে ‌‘অন্নদা উৎসব-২০২২’ নামে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছেন বা বিদ্যালয়ে কোনো এক শ্রেণিতে এক দিনের জন্য হলেও অধ্যয়ণ করেছেন এমন শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিবেন। দীর্ঘ কয়েক মাস চেষ্টা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৯৫৪ সালের একজন শিক্ষার্থীর খোঁজে পাওয়া যায়। এ অবস্থায় ১৯৫৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা এই অন্নদা উৎসবে অংশ নিচ্ছেন।

উৎসবের দ্বিতীয় ধাপ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দ্বিতীয় অংশের মধ্যে স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মধ্যাহ্ন ভোজ, স্বাগত ভাষণ, সম্মাননা ও কেক কাটা, অন্নদিয়ানদের সাংস্কৃতিক পর্ব, তারুণ্যের ব্যান্ড ওয়ারলেস মোড়ের গান পরিবেশনা ও রা ড্র অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় অংশ অন্নদা বোর্ডিং মাঠে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জনপ্রিয় ব্যান্ড ভয়েস অব মাইলস (শাহিন আহমেদ ও তার দল) এর কনর্সাট।

যায়যায়বেলা