যায়যায়বেলা
যায়যায়বেলা

বিজয়নগরের বুধন্তী মাটি খননের ধানের জমি নষ্ট করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান

মোঃশাহিন চৌধুরী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের বুধন্তী এলাকার তিতাস নদীর শাখা খননের মাটি ধানের জমি নষ্ট করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে যাচ্ছে ব্রিক ফিল্ডে। বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তী ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তিতাস নদী (শাখা নদী) খননের কাজ চলছে। আর নদী খননের মাটি ফেলা হচ্ছে তিতাসপাড়ের কৃষকের ফসলি জমিতে। এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে তাদের আশ্বস্ত করা হয় যে তাদের ক্ষতি হবে না। মাটি তাদেরই থাকবে, তারা ইচ্ছে করলে ওই মাটি খেতে ফেলে জমি উঁচু করতে পারবেন অথবা বিক্রিও করে দিতে পারবেন। এই ভেবে তারা আর ফসলি জমি নষ্ট হলেও মাটি কাটার কাজে বাধা দেয় নাই। কিন্তু জমির মালিকরা এখন অভিযোগ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাদের কোনো ক্ষতিপূরণ না দিয়ে জোর করে মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, বুধন্তী এলাকার তৈয়ব আলীর ছেলে মনির হোসেন, আব্দুর রহিমের ছেলে জামাল মিয়া মাহফুজ মিয়ার ছেলে মোবারক মিয়া মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন এক ইট ভাটায়। তারা নদীর পাড়ে জমানো মাটিও বিক্রি করছেন। বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, ৭-৮টি ট্রাক্টর দিয়ে ভেকুর সাহায্যে মাটি কেটে স্থানীয় এক ইটভাটায় মাটি ফেলা হচ্ছে। সংবাদকর্মীরা সেখানে ছবি তুলতে গেলে ২টি মোটরসাইকেলে করে ৪ যুবক তাদের আশপাশে ঘুরাঘুরি করতে থাকে। পরে যুবকরা বুধন্তী ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে সংবাদকর্মীদের। স্থানীয় হাজী ছায়েদ মিয়া জানায়, নদী খননের সময় তারা বলছিল মাটি কেটে জমিতে ফেলার জন্য; তাদের ধানের জমি নষ্ট হইতেছে। তখন তারা বলছিলেন- মাটি আপনাদের জমিতে থাকবে। এখন তারা মাটি ব্রিক ফিল্ডের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। আমরা তাদের বলেছি আমাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে মাটি সরাতে। কিন্তু তারা মানছে না। জোর করে মাটি ব্রিক ফিল্ডে বিক্রি করে দিচ্ছে। তারা আমাদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি না। গত সোমবার আমরা মাটি কাটতে বাধা দিলে তারা চেয়ারম্যানকে ফোন দেয়। চেয়ারম্যান সকালে আসবে বলে জানায়, পরে আর আসে নাই। চেয়ারম্যানের কথা বলে মাটি ব্রিক ফিল্ডে বিক্রি করে দিতাছে। আম্বিয়া খাতুন বলেন, আমার লাহান (মতো) অসহায় মানুষ আর দুনিয়ায় নাই। আমার বাড়িঘর নাই, সামান্য কদ্দুর জমি এইডা কইরা খাই। তারা আমার ক্ষেতের মাটি বেইচ্চা (বিক্রি) দিতাছে। তারা বলে ওপর থাইক্যা বড় সরকারের অর্ডার আনছে মাটি বেচার লাইগ্যা। গোরস্তানের (কবরস্থানের) নাম করে বেইচ্চা দিতাছে। এছাড়াও মো. জিল্লু মিয়া বলেন, নদী যখন খনন করে তখন আমরা কইছি আমরার ধান নষ্ট হইবো। তখন তারা বলছিলেন জমি নষ্ট হইলেও আপনারা লাভবান হইবেন। মাটি আপনাদের থাকবে, ক্ষেত উঁচা হইবো, না হয় মাটি পরে বিক্রি করে দিতে পারবেন। কিন্তু এখন উল্টো তারা মাটি কবরস্থান, মসজিদ ও মাদ্রাসা ভরাটের কথা বলে বিক্রি করে দিতাছে। তারা নাকি ইউএনও এবং চেয়ারম্যানের কাছ থেকে অনুমোদন আনছে মাটি বেচার। আমরা আমাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে মাটি বিক্রি করতে বলছি। গত সোমবার আমরা মাটি কাটতে বাধা দিলে পুলিশ আসে। পুলিশ এসে চেয়ারম্যানকে ফোন দিলে উনি সকালে আসবেন বলে জানান। পরে আর আসে নাই। মাটি কেটে বিক্রি করাদের একজন মনির মিয়া বলেন, মাটি যাইতাছে স্কুল, কবরস্থান ও রাস্তায়। ব্রিক ফিল্ডে মাটি যাচ্ছে কেন? জানতে চাইলে মনির মিয়া বলেন, ১০০ ট্রাক্টর মাটি কাটলে ভেকুর খরচ আছে। এজন্য মাটি ৫০ ট্রাক্টর ব্রিক ফিল্ডে যায়। প্রতিদিন ৫০ ট্রাক্টর মাটি বিক্রির টাকা কোথায় যায়? উত্তরে তিনি বলেন- চেয়ারম্যান রাস্তার কাজে খরচ করেন। মাটি কেটে বিক্রি করাদের অন্যজন জামাল মিয়া বলেন, মাটি কেটে অফিসের নিচু যায়গা ভরাট হচ্ছে। আর পাশের ব্রিক ফিল্ডে যাচ্ছে। স্থানীয় জমির মালিকরা যখন মাটি কাটতে বাধা দেন তখন চেয়ারম্যানকে জানাইছেন কিনা? জবাবে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান বলছেন মাটি কাটার জন্য। এ বিষয়ে বুধন্তী ইউপি চেয়ারম্যান মো. কাজী সাইদুর রহমানের কাছে গেলে উনাকে তার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে তিনি মাটি বিক্রির কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের লোকজনকে জানিয়ে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাবেয়া তাইমা বলেন, মাটি বিক্রির বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা দেখছি।

যায়যায়বেলা