যায়যায়বেলা
যায়যায়বেলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর চাতলপাড়ে ধলেশ্বরী নদীতে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর,দোকানপাট আর মসজিদ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ভাঁটি অঞ্চল নামে  চাতলপাড় ইউনিয়ন।চাতলপাড়ে রয়েছে বড়বাজার ও চকবাজার নামে বহু পুরানো দুটি বাজার। ইউনিয়বাসী আবারো  পড়েছে মেঘনার ভাঙ্গনের কবলে।যদিও পুর্বে দুইবার স্থানীয় সংসদ সদস্য বি,এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম আর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে  ২০ লক্ষ টাকা মূল্যের জিও ব্যাগ ফেলে সমস্যা কিছুটা মোকাবেলা করা হয়েছিল।কিন্তু এ বছর আবারো নতুন করে ভাঙ্গন ধরেছে  চাতলপাড় চকবাজার,বড় বাজার ও বিলের পাড় সহ প্বার্শবর্তী এলাকায়।নদী ভাঙ্গনের কবলে পরেছে অনেক ব্যবসায়ী পরিবারও।ভাগ্য বিড়ম্বনার শিকার ওই সকল ব্যবসায়ী  পরিবারগুলোর দোকান, ঘর, বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার ভয়ে আতংকগ্রস্থ হয়ে দিনাতিপাত করছে তারা।
সরেজমিন নদী ভাঙ্গন এলাকা গিয়ে ঘুরে দেখা গেছে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারনে আর নদীতে প্রবাহীত  তীব্র স্রোতের কারনে নদী তীরের পানির গভীরতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।ইতিমধ্যেই পবিত্র মসজিদ,বাড়ি, ঘর ও কিছু স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে অনেক পরিবারই ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।আর ক্ষতিগ্রস্থরা অনেকেই নিঃস্ব হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেছে।
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অতীতেও  ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে অনেক বাড়ি ঘর-দোকান পাট।এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে নদী ভাঙ্গনরোধে  পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প গ্রহণ করলেও এখনো তা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
চাতলপাড়ের নদী ভাঙ্গন সম্পর্কে জানতে চাইলে বড় বাজারের বিশিষ্টি ঔষধ ব্যবসায়ী শুভেচ্ছা ফার্মেসীর মালিক সুজিত কুমার রায় এ প্রতিনিধিকে জানান,নদীর প্রবল স্রোতে প্রতিদিন পার্শ্ববরাতী বাড়িঘর, দোকানপাঠ ভাঙ্গছেই আর ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের কান্না কিছুতেই থামছে না।এ পর্যন্ত কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,চাতলপাড়,বিলেরপাড় ও চকবাজারে মিলে প্রায় ৪ একরের মত জায়গা নদী গর্ভে চলে গেছে।তিনি জানান এখানে প্রতি শতাংশ জায়গার মুল্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা।তাছাড়াও ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।জায়গা ছাড়াও বিলেরপাড় একটি সমজিদ,বেশ কয়েকটি দোকানপাঠ আর বাড়ি ঘরও চলে গেছে নদীগর্ভে।যার হিসাব ইউএনও অফিস আর ইঞ্জিনিয়ার অফিসে আরাে আগেই দেয়া আছে।তিনি বলে আমার পরিষদে এ বিষয়ে কোন বরাদ্ধ নেই।স্থানীয় সংসদ সদস্য,ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,উপজেলা প্রকৌশলী এসে পরিদর্শন করে গেছে।তবে দিন দিন ভাঙ্গনের অবস্থা খুবই তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ ধারন করছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
চাতলপাড়ের নদীভাঙ্গন রোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মেহেদি হাসান শাওন বলেন,আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা কি পদক্ষেপ নিয়েছে আমি আবারো যোগাযোগ করে দেখবো।
যায়যায়বেলা