যায়যায়বেলা
যায়যায়বেলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছুরিকাঘাতে সাংবাদিক নিহত

যায়যায়বেলা ডেক্স : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আশিকুর ইসলাম আশিক নামে এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। সোমবার (৯ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের দক্ষিণ মৌড়াইল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আশিক ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পর্যবেক্ষণ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে নিহতের স্বজনসহ জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে যান। এ সময় স্বজনসহ বন্ধুরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকারীকে ছুরিসহ আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার পরিবারে মা-বাবা-স্ত্রীসহ তিন বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

পরিবারের সদস্যসহ বন্ধুরা জানান, সাংবাদিক আশিক ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পর্যবেক্ষণ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাতিঘর নামে ‘বেওয়ারিশ’ লাশ দাফনকারী একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আজ বিকালে শহরের দক্ষিণ মৌড়াইলে বাতিঘর সংগঠনের একটি সভা ছিল। সেই সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। সভা শেষে ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইকে করে অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহরের কুমারশীল মোড় এলাকায় ফিরছিলেন।

এ সময় হঠাৎ তাকে বহন করা ইজিবাইকটি থামিয়ে রায়হান নামে এক যুবক তার বুকে ছুরিকাঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তার সহকর্মীরা ধাওয়া করেও ঘাতককে ধরতে ব্যর্থ হয়। পরে সহকর্মীরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে আশিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। এ সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান।

নিহতের মা রহিমা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে বেওয়ারিশ লাফ দাফন করতো সবসময়। সে কেন এভাবে লাশ হয়ে গেলো? আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’

নিহতের বোন সুমা আক্তার বলেন, ‘গতকাল রাতে আমার আব্বা বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। আমার ভাই আব্বাকে ঢাকা থেকে নিয়ে ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিরে। আজকে দুপুরে মিটিং আছে বলে বাসা থেকে বের হয়। আমার ভাই সবসময় বেওয়ারিশ লাশ দাফন করতো। আমার ভাইকে আজকে লাশ বানিয়ে দিলো। ভাই হত্যার বিচার চাই।’

বাতিঘর সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে দুপুরে আমাদের সংগঠনের সভা ছিল। সভা শেষ করে আমরা ফেরার পথে অটোরিকশায় ওঠার সময় আশিকের বুকে রায়হান নামে এক যুবক হঠাৎ ছুরিকাঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক দাবি করছি।’

এদিকে হাসপাতালে উপস্থিত জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন বলেন, ‘আশিক একসময় ছাত্রলীগের একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। ব্যক্তি জীবনে অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। আমরা হত্যাকারীর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করছি।’

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আরাফাত ইসলাম বলেন, ‘নিহতের বুকের বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালে আনার পরই তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা ইসিজি করে তাকে মৃত ঘোষণা করি।’

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে ছুটে আসেন। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন জানান, ঘাতক রায়হানকে শহরের শিমরাইল কান্দি এলাকা থেকে ছুরিসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রক্ত দেয়াকে কেন্দ্র করে শহরের কাউতলী এলাকায় ঘাতক রায়হানের সঙ্গে আশিকের বাদানুবাদের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’

যায়যায়বেলা