যায়যায়বেলা
যায়যায়বেলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়  নৌ-দুর্ঘটনার আশঙ্কা নোঙরের ৬ দফা বাস্তবায়নের জোর দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :
আদিকাল থেকে নদীর উপর ভিত্তি করে শহর বন্দর গড়ে উঠেছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষ সময় বাঁচাতে নৌপথের বিকল্প ব্যবহার করলেও অধিকাংশ মানুষই নৌপথকে নিরাপদ ও আরামদায়ক মনে করছে। যার ফলে আধুনিক যুগেও নৌপথই জনপ্রিয় রয়ে গেছে। তিতাস নদী ও হাওর বেষ্টিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৯টি উপজেলায় বর্ষার মৌসুমে নৌপথই ভরসা। যাত্রী যাতায়াত, মালামাল আনয়নে খরচ কম হওয়ায় মানুষ নৌ-পথে যাতায়াতে আরামদায়ক মনে করেন। বর্ষার মৌসুমে বিশাল জলরাক্ষী পাড়ি দিয়ে মানুষ তার নিজ গন্তব্য স্থলে পৌঁছে। তবে নৌপথে দায়িত্বরত অধিদপ্তরের অবহেলার কারণে বার বার নৌ-দুর্ঘটনা ঘটছে। গত ২৭ আগস্ট শুক্রবার ২০২১ সনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার চম্পনগর থেকে সদর উপজেলার আনন্দ বাজার ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী নৌকা ও অনুমোদনহীন বালুভর্তি বাল্কহেডের সাথে ধাক্কায় ২২ জনের প্রাণহানী ঘটে। নৌ-দুর্ঘটনার পরেই প্রশাসনসহ সকল কর্তাব্যক্তিদের টনক নড়ে। প্রশাসন কিছুদিন সক্রিয় থাকার পর পুনরায় পূর্বের গতিতে চলতে থাকে নৌকার মাঝিরা। এবছর নতুন পানি বাড়ার সাথে সাথেই নৌ যোগাযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রশাসনের তদারকি না থাকায় নৌকার মাঝিরা পুনরায় সিন্ডিকেট করে তাদের নিজস্ব নিয়মে চলছে। নিজস্ব নিয়মে সময় নির্ধারণ অনুযায়ী একেকটি নৌকায় ৬০/৭০ জন করে যাত্রী বহন করছে যা গত বছরের দুর্ঘটনার পর প্রশাসন ও বিআইডবিøউটিএ কর্তৃপক্ষ তাদের নৌকার আয়তন অনুযায়ী প্রতি নৌকায় ২০/২৫ জন যাত্রী নেয়ার জন্য নির্ধারণ করে দেন। এসব নির্দেশ অমান্য করে মাঝিরা চলছে তাদের নিজেদের নিয়মে।
আনন্দ বাজার ঘাটের বুলু মাঝি জানান, চম্পকনগর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেট তাদেরকে যেভাবে পরিচালনা করছে মাঝিরা সেভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।
নদী ও প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষার সামাজিক সংগঠন “নোঙর” ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, গত বর্ষায় লইস্কা বিলে দুর্ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশাসন। সামনে আসে নিরাপত্তার বিষয়টি। যদিও নৌ-নিরাপত্তায় নোঙর’র আন্দোলন দীর্ঘদিনের। দুর্ঘটনায় পর আমাদের ছয়টি দাবী ছিলো (১) নৌযান নিবন্ধন করে নিবন্ধিত নাম্বার প্লেট নৌযানে প্রদর্শিত স্থানে স্থাপন করা, (২) নৌ চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স এর আওতায় আনা, (৩) নৌযান অনুযায়ী যাত্রী সংখ্যা নির্ধারণ করা, (৪) অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধে কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো, (৫) নৌযানে পর্যাপ্ত বয়া নিশ্চিত করা ও (৬) চালক ও যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করা। এই পর্যন্ত নৌ-দুর্ঘটনায় প্রাণহানি এড়াতে আমাদের দাবিগুলো আমলে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। বিআইডব্লিউ টি এর কর্মকর্তারা এসে জরিমানা আদায়ে ব্যস্ত থাকলেও নৌ-নিরাপত্তায় কোনো কার্যকরী ভূমিকা রাখছে না।
এবিষয়ে বিজয়নগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহামেদ দৈনিক ভোরের দর্পণকে জানান, চম্পকনগর বাজারটি আমার অধিনে। আমরা নৌ-দুর্ঘটনা রোধে প্রতিটি নৌকার মালিককে আগামী ২৪ জুনের তাদের নৌকাগুলো নিবন্ধন করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছি। এ সময়ের মধ্যে তারা নিবন্ধন করতে না পারলে আমরা তাদের নৌকার চলাচল বন্ধ করে দিব। এছাড়াও একজন এএস আই, তৌহসীলদার, চম্পকনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাজার কমিটির সভাপতিসহ চারজনকে দিয়ে কমিটি করে দিয়েছি। এখন তারাই বিষয়গুলো দেখছেন। পর্যাপ্ত যাত্রী নেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা তাদেরকে নির্ধারিত সময় নির্ধারণ করে দিয়েছি যা আগের থেকে অর্ধেক যাত্রী নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। সময় নির্ধারণ করে দিলে তখন যাত্রী অধিক বহন করতে পারবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এড়িয়ে যান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়ামিন হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বল্লে তিনি বলেন, আশুগঞ্জ- ভৈরব নদী বন্দরের টিআই জসিমের সাথে কথা বলতে। তবে টিআই জসিমকে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।
যায়যায়বেলা