যায়যায়বেলা
যায়যায়বেলা

শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগ, বিদ্যালয় ভাঙচুর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় লোকজনসহ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন শেষে বিদ্যালয় ভাঙচুর করেছে।

সোমবার (২১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ধারিয়ারচর হাজী উমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা, শ্রমিকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিনসহ শতাধিক বহিরাগত বিদ্যালয়ে ঢুকেন। সেসময় ক্লাস চলছিল। শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে পাঠদান ব্যাহত করে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে বাইরের মাঠে নিয়ে যায়।বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন অভিযোগ তুলে ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে তারা মানববন্ধন করে। মানববন্ধন শেষে বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের হাসনা হেনা একাডেমিক ভবনের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে লাঠিসোটাসহ স্কেল, কাঠ, বাঁশ, ইট ও পাইপ ছিল। খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম একই বিদ্যালয়ের ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বিয়ে করেছেন বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানতে পারে। গত ১৭ মার্চ সন্ধ্যায় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিদ্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আশরাফ উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটি ও শফিকুল ইসলামকে ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়। সোমবার সকালে শিক্ষার্থীদের পরিবারের দুই সদস্য সহকারী শিক্ষক শফিকুলের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক আমেনা বেগমের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সহকারী শিক্ষক শফিকুল প্রায় দেড় মাস আগে প্রাইভেট পড়ানোর সময়ে কক্ষে এক  পেয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমেনা বেগম বলেন, গত ১৭ মার্চ সন্ধ্যায় আমরা সভা করে ঘটনা যাচাই করতে তদন্ত কমিটি গঠনসহ শিক্ষক শফিকুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। আমরা এখনো ঘটনার কিছুই জানি না। তিনি বলেন, সোমবার উপজেলায় পৌঁছার পরপরই জানতে পারি, ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন আহমেদ স্থানীয় লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। আমি তাকে অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। এরমধ্যেই তিনি শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানববন্ধন করে। পরে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে শিক্ষকরা আমাকে জানিয়েছেন।মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের বিষয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে শিক্ষকের বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেছে। পরে বিদ্যালয়ের ছাত্ররা ভাঙচুর করেছে বলে শুনেছি।এদিকে, একাধিকবার চেষ্টা করেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দা শমসাদ বেগমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি ও থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ঘটনাস্থলের সব কিছু শুনে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। কমিটির তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যায়যায়বেলা