যায়যায়বেলা
যায়যায়বেলা

সরাইলে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মনগড়া এজাহারে সই নেয়ার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পুলিশ হেফাজতে নজির আহামেদ (৩৫) নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মনগড়া এজাহারে সই নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহত নজির আহামেদ সাফু (৪০) সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের নিজ-সরাইল গ্রামের মোল্লাবাড়ির মৃত ওবায়দুল্লাহর ছেলে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সরাইল উপজেলা সদরে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত নজির আহামেদ এর ভাই জাফর আহামেদ বলেন, পুলিশ মনগড়া মত লিখে এজাহারে সই নিয়েছে আমার কাছ থেকে। আমার ভাই মারা যাওয়ার পর আমরা সরাইল হাসপাতালে যাই। সেখানে আমার ভাইয়ের বুকে একটি ফোলা জখম দেখতে পাই। সুরতহাল প্রতিবেদনে এটা লেখার দাবি জানাই আমরা। কিন্তু পুলিশ তা লিখতে আপত্তি করে। পরে থানা থেকে আমাদের ফোন করে ডেকে নিয়ে মামলা করতে বলে।

আমরা বলেছি মামলা পরে করব। কিন্তু পুলিশ বলেছে, মামলা পরে করলে মেরিট নষ্ট হবে। তখন তাদের লেখা এজাহারে আমি স্বাক্ষর দিই। পুলিশ আমাদের ‘ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করেছে। পুলিশ বলছে, আমার ভাই হৃদরোগে মারা গেছে। তারা কীভাবে বুঝল হৃদরোগে মারা গেছে? পুলিশ আসামি জুম্মানকে থানায় নেয়ার সময় আমার ভাইকেও থানায় নিয়ে যায়। তখন ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের কেউ ছিল না।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে
সরাইল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে নজির আহামেদের বাড়িতে চুরি হওয়ার সময় এক চোরকে আটক করে বাড়ির সদস্যরা। গণপিটুনিতে চোর আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে চোরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। মামলা করার জন্য নজির আহমেদও থানায় অাসেন। মামলার আগে গণপিটুনিতে আহত চোরকে চিকিৎসার জন্য পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে নেয়ার সময় নজিরও সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু হাসপাতালে যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হন নজির আহামেদ। তাকে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। সে সময় সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছিলেন চিকিৎসক ফজলে রাব্বী।

ওসি আরও বলেন, চুরির ঘটনায় নিহত নজির আহামেদের বড় ভাই জাফর আহামেদ বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এর মধ্যে আটক জুম্মান মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। জুম্মান একই এলাকার বাসিন্দা।

সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন ফজলে রাব্বী বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে পুলিশ নজির আহামেদকে নিয়ে হাসপাতালে আসে। পথেই তার মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে আনার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নজির আহামেদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।

এ বিষয়ে জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, পুলিশ হেফাজতে নজির আহামেদের মৃত্যু হয়নি। ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি মামলার নথির বরাতে বলেন, একটি বসতভিটা নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝগড়া হয় নজির আহামেদ ও জুম্মানের মধ্যে। জুম্মান মিয়া ওই দিন রাত সাড়ে ৮টায় নজির আহামেদের শয়নকক্ষে তাকে হত্যার জন্য প্রবেশ করেন। কিন্তু নজির আহামেদ তাকে ধরে ফেলেন।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে জুম্মানকে থানায় হেফাজতে নেয়।  পুলিশ। নজির আহামেদও থানায় যান মামলা করার জন্য। পথে নজির আহামেদ অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

যায়যায়বেলা