যায়যায়বেলা
যায়যায়বেলা

সীমান্ত খোকন সহ ৪ সাংবাদিকের নামে আইসিটি আইনে মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

জাতীয় দৈনিক দেশবাংলা পত্রিকা ও কলকাতা টিভির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল তেপান্তর ও সাপ্তাহিক সাকিয়াত পত্রিকার সম্পাদক সীমান্ত খোকন সহ ৪ সাংবাদিকের নামে আইসিটি আইনে মামলা করেছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সীতানাথ সূত্রধরের ছেলে সুভাষ সূত্রধর। গত ২৫ জুলাই চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইবুনাল আদালতে মামলাটি করেন তিনি। মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, দৈনিক বাংলা ৭১ ও উত্তরাধিকার ৭১ নিউজের সম্পাদক প্রবীর সিকদার, ৭১ নিউজ ও দৈনিক বাংলা ৭১ এর বিশেষ প্রতিনিধি গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু ও তেপান্তর এর একজন রিপোর্টার।

মামলার বিবরণে অভিযোগ করা হয়, প্রবীর সিকদারের সম্পাদনায় উত্তরাধিকার ৭১ নিউজে গত বছর ২০২১ সালের ২৮ মে ‘হামলাকারী সীতানাথ সূত্রধরের একমাত্র ছেলে সুভাষ সূত্রধরকে আজ সকালে চালান করা হয়েছে’ – শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে বাদীর মানহানী হয়।
এরপর চলতি বছর ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল একই পত্রিকায় (উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ) বাদীর পিতা সীতানাথ সূত্রধরের বিরুদ্ধে- ‘অপকর্মের প্রতিবাদ করায় নবীনগরে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকী দিল সেই বিতর্কিত সীতানাথ’ শিরোনামে আরেকটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে বাদীর পিতার মানহানী হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, অনুরূপ দুটি সংবাদ একই শিরোনামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিউজ পোর্টাল তেপান্তর ডট কমেও প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদ দুটিকে ‘মিথ্যা ও মানহানীকর’ দাবী করে এতে বাদী সুভাষ সূত্রধর ও তার পিতা নবীনগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সীতানাথ সূত্রধরের সামাজিক ও কর্ম জীবনের মান সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে এ মামলা হয়রানি ও উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত সাংবাদিকরা।

এবিষয়ে তেপান্তর সম্পাদক সীমান্ত খোকন বলেন, তেপান্তরে যেই নিউজ প্রকাশ হয়েছে তা সীতানাথ সূত্রধরের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের উপর ভিত্তি করেই নিউজ হয়েছে। সীতানাথ সূত্রধর তার প্রতিপক্ষের উপর হামলার ঘটনার পর সীতানাথ সূত্রধরসহ বেশ কয়েকজনকে আসামী করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে মামলা করেন ভোগক্তগী কালীপদ সূত্রধর। তখন ৭ আসামীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন আদালত। এছাড়াও ওই সংবাদ ১৯ এপ্রিল প্রকাশ হওয়ার পর ২৬ এপ্রিল সীতানাথের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ ছাপা হয় তেপান্তরে। এরপরও তিনি হয়রানীর জন্য উদ্যেশ্যমূলক ভাবে মামলা করেছেন। এলাকায় খোজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগেও কয়েকজন সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা করে রেখেছেন সীতানাথ। নবীনগরের অনেকেই তাকে মামলাবাজ হিসেবে চিনেন। নবীনগর কেন্দ্রীয় কালীবাড়িতে প্রায় দুই যুগ ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকার পরও সীতানাথ সূত্রধর কালীবাড়ির ‘সভাপতি’ পদে থেকে কালীবাড়ির লাখ লাখ টাকার কোন হিসাবপত্র দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিক গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু বলেন,’যখন যা ঘটেছে, একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি তা পত্রিকায় তুলে ধরেছি। মূলত আমার সাহসী সাংবাদিকতাকে বন্ধ করতেই সীতানাথ একটি চিহ্নিত প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় আমার বিরুদ্ধে একের পর এক এসব জঘণ্য মিথ্যে ও হয়ামরাণীমূলক মামলা করে যাচ্ছে। এসব হয়রাণীমূলক মিথ্যে মামলায় আমি আর্থিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমি মারাত্মক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী। তাই একের পর এক মামলা দিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে আমাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। সেজন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর জোর প্রতিকার চাচ্ছি।’

এবিষয়ে জানতে মামলার বাদী এবং বাদীর পিতা সীতানাথ সূত্রধরের মোবাইলে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।

যায়যায়বেলা