যায়যায়বেলা
যায়যায়বেলা

সড়ক করতে নালা ভরাট, পানিতে ৪০ কারখানা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক;

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে ভারতের আগরতলা পর্যন্ত চারলেনের মহাসড়কের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এই কাজের জন্য সড়কের পাশে থাকা নালা ভরাট করে ফেলায় পানি উঠে তলিয়ে গেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরী এলাকা। এর ফলে বিসিকের চলমান ৬০টি কারখানার মধ্যে ৪০টিই বন্ধ হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৯০ দশকে সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের নন্দনপুর এলাকায় ২২ একর জায়গায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরী গড়ে ওঠে। দিন দিন শিল্প কারখানা গড়ে ওঠায় বিসিকের প্লটের চাহিদা বেড়েছে। বিসিক শিল্পনগরীতে মোট ৭২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে করোনায় বন্ধ হয়ে গেছে ১২টি। বিসিকের সামনে দিয়ে যাওয়া কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কটি আশুগঞ্জ-আগরতলা রুট হিসেবে চারলেনে করা হচ্ছে। এ কাজে বেশ কিছুদিন ধরে বালুসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী ফেলা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিসিকের সামনের নালাটিও বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। ওই নালাটিতে পুরো বিসিক এলাকার কারখানাগুলোর বর্জ্য পানি ফেলা হতো।

দুই সপ্তাহ আগে থেকে নালাটি ভরাট কাজ শুরু হয়। গত চার-পাঁচ দিন আগে সামনের অংশের নালাটি পুরোপুরি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বিসিকে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে আব্দুল মোনেম লিমিটেড, মুন্নী সোপ, মা-মণি সোপ, আলম কেমিকেল, সুবর্ণ আইসক্রিম, বাবুল চিড়ার মিল, ভাই ভাই মুড়ির মিল, কাসেম মেটাল, রতন ফুড, রহিমা লুভ অয়েল, জাবেদ মেটাল, ভাই ভাই অ্যালমুনিয়াম, পিন্টু বলপেন, মান্না কেমিকেল, আপন ফ্লাওয়ার মিলসহ অন্তত ৪০টি কারখানায় পানি ঢুকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বিসিক কার্যালয়ের আঙ্গিনায়ও পানি থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে যেতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

বিসিকের মেসার্স সুবর্ণ আইসক্রিম ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী মো. জাকির হোসেন জাগো নিউজকে জানান, বিসিক গড়ে ওঠার পর থেকেই সড়কের পাশে থাকা নালা দিয়ে এখানকার বর্জ্যের পানি যেতো। এখন হুট করেই নালা বন্ধ করে দেওয়ায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এর আগে অবশ্য মৌখিকভাবে নিজস্ব ড্রেনেজ ব্যবস্থার কথা বলা হয়। কিন্তু সরকারি এ শিল্প প্রতিষ্ঠানে তো আর ব্যবসায়ীদের পক্ষে এটা করা সম্ভব না। ব্যবসায়ীরা চান সরকারের সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান করুন।

বিসিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. রুকন উদ্দিন ভূঁইয়া  বলেন, এই শিল্পনগরীতে অ্যালুমিনিয়াম, সোডিয়াম সিলিকেট, তেল, সাবান, ময়দা ও বিস্কুট কারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের ৭২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। তবে করোনা মহামারির প্রভাব, গ্যাস ও মূলধন সংকটসহ বিভিন্ন কারণে ১২টি কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। চালু থাকা বাকি ৬০টি কারখানার মধ্যে জলাবদ্ধতার কারণে ৪০টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কার্যালয়সহ অর্ধেকের মতো কারখানা পানিতে তলিয়ে আছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলেছেন একটি নালা কেটে দিবেন।

যায়যায়বেলা